নিরাপত্তা চান চা শ্রমিকেরা আস্থা সৈয়দ ফয়সলে
Date: 2026-02-05
‘আমরা চাই নির্বাচনের পরেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে, ব্যবসা করতে ও শান্তিতে থাকতে। আমরা বিশ্বাস করি, সৈয়দ ফয়সল সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবেন।’ কথাগুলো হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের চন্ডি চা বাগানের শ্রমিক শ্যামল সাঁওতালের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন দুই উপজেলার ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকেরা। এসব বাগানে শ্যামল সাঁওতালের মতো ভোটার আছেন প্রায় ৭৫ হাজার। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের বাক্সে গেছে এসব ভোটের বেশির ভাগ। এবারের নির্বাচনে চা বাগান এলাকাগুলোতে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে।
চা শ্রমিকদের ভাষ্য, তারা স্থানীয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ মো. ফয়সলের দিকে ঝুঁকছেন। সোমবার দিনভর কয়েকটি চা বাগানে গিয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিরাপত্তা, শান্তি ও ন্যায্য অধিকার চান। এ জন্য বিএনপিপ্রার্থীর প্রতি তাদের প্রত্যাশা অনেক।
মাধবপুর তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকনেতা ও শাহজাহানপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইমন মুর্মুর ভাষ্য, ‘চা বাগানের মানুষ মূলত শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও মৌলিক উন্নয়ন চায়। আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দেখেছি, সৈয়দ মো. ফয়সল সবচেয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তাঁর কাছে কোনো অন্যায়, জুলুম বা হয়রানির জায়গা নেই।’
এই দুই উপজেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার আছেন। তাদের ভোটও নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। পাশাপাশি তাদের ধারণা, চা বাগান ভোটারদের মনোভাবও একই ভূমিকা রাখবে।
বেজুরা এলাকার বাসিন্দা অরুণ কুমার নাগ বলেন, ‘যে প্রার্থী আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজে হয়রানি করবেন না–আমরা তাঁকেই সমর্থন দিচ্ছি। সেই হিসাবে এবার আমাদের পছন্দ সৈয়দ ফয়সল।’
গণসংযোগ ও প্রচার
সোমবার বুল্লা বাজারে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার করেন সৈয়দ মো. শাহজাহান। তিনি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। চৌমুহনী বাজারে বিশাল মিছিল শেষে বক্তব্য দেন সাবেক ওসি নূরুল ইসলাম। শাহপুর বাজারের সভায় বক্তব্য দেন সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।
সোমবার সারাদিনই নানা এলাকায় চলেছে ব্যাপক প্রচার। সন্ধ্যায় মাধবপুরের শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপিপ্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল। তিনি এলাকাবাসীর কাছে ভোটপ্রার্থনা করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, আইনের শাসন ও সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন। এদিন সকালে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামে খান্দুরা দরবার শরিফের পীর সৈয়দ মো. জুবায়ের কামাল ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালান। এ সময় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁকে ঘিরে সমর্থন জানান।
তাহেরিকে ইসির সতর্কবার্তা
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির উপসচিব মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের সই করা নোটিশে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।
ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ফেসবুকের ‘দ্য স্পিচ’ নামক পেজের ভিডিও লিংক ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ভোট চেয়েছিলেন বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। এটি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইসি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গিয়াস উদ্দিন তাহেরির মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও ধরেননি তিনি।

