ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার ভিড়ে দুই নারী প্রার্থী

Date: 2026-02-05
news-banner

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি) আসনে নির্বাচনী প্রচার এখন তুঙ্গে। প্রচার–প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীরা। দিনরাত ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।  

এই আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের পুরুষ প্রার্থীদের প্রচারণার পাশাপাশি সমানতালে মাঠ কাঁপাচ্ছেন দুই নারী প্রার্থী। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) মনোনীত তৌফিকা দেওয়ান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখার সক্রিয় গণসংযোগে জয়পুরহাটের ভোটের মাঠ এখন রীতিমতো সরগরম। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ।
প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সাবেকুন নাহার শিখার নির্বাচনী পথটি মোটেও সহজ ছিল না। তিনি পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি সংসদ নির্বাচনে দাঁড়াতে গেলেও ভোটার তালিকায় নামের গরমিলের অজুহাতে শুরুতে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। তবে আইনি লড়াই চালিয়ে আদালত থেকে প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার পর তিনি ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে রাত-দিন গ্রাম থেকে শহরে ছুটছেন।

সাবেকুন নাহার শিখা বলেন, ‘একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা এই সমাজে খুবই কঠিন। মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে আমাদের কাজ করার পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও উপজেলা নির্বাচনে মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিলেন, কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আশা করি, এবার সংসদ নির্বাচনে মানুষ আমাকে বঞ্চিত করবে না।’ তিনি নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও বেকারত্ব দূর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
একইভাবে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ‘কাঁচি’ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান। তিনি গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে কৃষিভিত্তিক সমাজ গঠনের কথা বলছেন। তৌফিকা মনে করেন, সমাজে কৃষকরা সব সময় বঞ্চিত গত ৫৪ বছরে তাদের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিতে চায়। জয়ী হওয়ার পর কাজ করেনা। আমি চাই কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার আদায়ের আন্দোলন গড়ে তুলতে।’ 

নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে তৌফিকা দেওয়ান জানান, একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে তাঁর কোনো অর্থ-বিত্ত নেই; আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামান্য সহায়তায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। বড় দলগুলো নারীপ্রার্থী না দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সংস্কারে নারী কোটার কথা বলা হলেও কোনো বড় দলই তা মানছে না, যা দুঃখজনক।’
ভোটের সমীকরণ জয়পুরহাট-১ আসনে এবারের লড়াই মূলত পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে। দুই নারীপ্রার্থী ছাড়াও বিএনপি থেকে মাসুদ রানা প্রধান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ফজলুর রহমান সাঈদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাসদ থেকে মো. ওয়াজেদ পারভেজ (মই) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারের সমর্থন পেতে তারাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন উন্নয়নের।
 ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৭৪ জন ভোটারের এই আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৮৩ জন, যা পুরুষ ভোটারের চেয়েও বেশি। ফলে এই বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তিনিই শেষ হাসি হাসবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News