গাবতলী পশুর হাট ইজারার টেন্ডার বাতিল করা হয় বেআইনিভাবে

Date: 2026-02-05
news-banner

রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাট ইজারার ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে চলতি ১৪৩২ বাংলা সালের পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এ টেন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। ডিএনসিসির এ-সংক্রান্ত নথিতে তিনি স্বহস্তে লিখে বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়ে সই করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ অবস্থায় প্রশাসক ডিএনসিসির উদ্যোগে ইজারার টাকা আদায় (খাস আদায়) করার নির্দেশনা দেন। ইজারা সংক্রান্ত নথিতে তিনি লেখেন, ইজারার বিজ্ঞপ্তি সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। মূলত এ কারণটি উল্লেখ করে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করেছেন।
সূত্র জানায়, গাবতলী গবাদি পশুর হাট ইজারার টেন্ডার জাতীয় তিনটি পত্রিকায় ছাপা হয়। এমনকি সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। তা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজটি দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ইজারামূল্য ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকার চেয়ে বেশি ইজারা মূল্যের প্রস্তাব করেছিলেন পাঁচ দরদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তারা সবাই ডিএনসিসি কর্তৃক নির্ধারিত জামানতের টাকাও জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স আরাত মোটর ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করেন। এই কোম্পানি জামানত হিসেবে ৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা এস এফ করপোরেশন ২১ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকার প্রস্তাব করে। এ কোম্পানি জামানত হিসেবে ১১ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। তৃতীয় স্থানের দরদাতা সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রস্তাব করে। তিনি জামানতের টাকার পে অর্ডার দাখিল করেননি।
চতুর্থ দরদাতা রাইয়ান এন্টারপ্রাইজ ১৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করেছে। এ কোম্পানি জামানত হিসেবে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জমা দেয়। পঞ্চম স্থানের দরদাতা দি সিমেন্ট জয়েন্ট ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার প্রস্তাব করে। এ কোম্পানি জামানতের টাকার পে অর্ডার দাখিল করেনি। 

ডিএনসিসি প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৯ জানুয়ারি অভিযোগগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডাকা হলে তিনি হাজির হননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো– মিরপুর গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটন দখলভার, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপারমার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ। এ পরিস্থিতিতে তিনি বিদেশ গমনের চেষ্টা করছেন– দুদক গোপন সূত্রে এ খবর পেয়ে তাঁর বিদেশে যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আবেদন জানালে আদালত বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার দুদকের অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. জে. মঈন উদ্দিন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে। টিমের অন্য সদস্য হলেন দুদক উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News