জবি প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে মন্দির ‘উদ্বোধন’ করলেন শিক্ষার্থীরাই
Date: 2026-02-05
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থানে ‘শৌচাগার’ নির্মাণের প্রতিবাদে এবং দ্রুত মন্দির নির্মাণের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেয়ে এদিন রাতে নিজেরাই পূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন করেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে তাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে দেবদেবীর ছবির সঙ্গে পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা বারবার প্রশাসনের নিকট মন্দির স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু তারা বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে সেখানে শেষ পর্যন্ত শৌচাগার তৈরির কাজ শুরু করে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার আমরা মঙ্গলবার সারাদিন প্রতিবাদ জানিয়ে কোনও সাড়া না পেয়ে সব আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপন করেছি।
মন্দিরের প্রস্তাবিত জায়গায় ‘শৌচাগার’ নির্মাণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানান জকসুর ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার প্যানেলের নির্বাচিত দুজন সম্পাদক এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একটি মন্দির স্থাপনের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছে। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তাদের ধর্মীয় অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার প্রশ্ন।
এদিকে আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবিতে সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। দুপুর তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের পাশে প্রস্তাবিত মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এই একাত্মতা জানান।
মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। একটি রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর দেশ গড়ে ওঠে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী আগে জবিয়ান এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। তাই এই ছোট ক্যাম্পাসের যেকোনো একটি উপযুক্ত স্থানে মন্দির স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে।
এসময় সনাতনী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী অঙ্কন কর্মকার বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা জবিয়ান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস। কেন্দ্রীয় মন্দিরের দাবি কোনো একদিনের নয়; এটি আমরা বহুদিন ধরেই জানিয়ে আসছি।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে মন্দির স্থাপনের দাবিতে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ প্রেক্ষিতে কয়েকটি পত্রিকায় ‘কেন্দ্রীয় মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জায়গায় শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুম নির্মাণ করা হচ্ছে’—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও বাস্তবতাবিবর্জিত। বর্তমান ক্যাম্পাসে কোথাও কেন্দ্রীয় মন্দিরের জন্য কোনো স্থান কখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বরং সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন ডিপিপিতেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিপিপি অনুমোদন পেলে অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সঙ্গে মন্দির নির্মাণ কার্যক্রমও শুরু হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সমানভাবে সচেষ্ট থাকবে বলে জানায়। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বিজ্ঞপ্তির পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে সনাতন বিদ্যা সংসদের সাবেক সভাপতি শ্রী সুমন কুৃমার দাস চূড়ান্তভাবে মন্দির নির্মাণের অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

