আ.লীগের ভোট নিয়ে কাড়াকাড়ি নাছির উদ্দিন-শিশির মনিরের
Date: 2026-02-06
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসন। এই আসনে ১৯৭০ সালে (তৎকালীন পাকিস্তান নির্বাচনে) তখনকার সিলেট-২ আসন থেকে প্রথম ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ১৯৯৬ সালে দল বদল করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে জাতীয় পার্টির নাছির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান সুরঞ্জিত। এরপর থেকে এ আসনে তিনি আর হারেননি।
সুরঞ্জিতের মৃত্যুর পর সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে তাঁর স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা উপনির্বাচনসহ তিনবার (একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে) এই আসনে এমপি হন। এবারের জাতীয় নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবারের কেউ প্রার্থী নেই। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকও নেই। প্রার্থীরা তাই ছুটছেন সুরঞ্জিত পরিবার ও আওয়ামী লীগের ভোট নিজের পক্ষে আনতে। রীতিমতো কাড়াকাড়ি এই ভোট নিয়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও শিশির মনির ছাড়াও এই আসনে কাস্তে প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সিপিবির নিরঞ্জন দাস খোকন।
মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচনী এলাকার হবিবপুর ইউনিয়নের শ্বাশখাই বাজারে সমাবেশ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। বুধবার বিকেলে একই স্থানে সমাবেশ করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শিশির মনির। দুইজনের সমাবেশেই বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত প্রার্থীর সমাবেশে রবীন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে শিশির মনির ছাড়াও বক্তব্য দেন বাবলু দাস, সাবেক ইউপি সদস্য রথীন্দ্র দাস, মন্টু দাস, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী, নোমান আহমদ প্রমুখ।
শিশির মনিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হিমেল দাস বললেন, ‘আমি ব্যবসায়ী মানুষ, এখানে যারা মামলা গ্রেপ্তারের আতঙ্কে ছিলেন, তাদের আইনি সহযোগিতাসহ নানাভাবে সহযোগিতা দিয়েছেন শিশির মনির। ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এলাকায় কিছু উন্নয়নও করেছেন। কে এখানে ভোট বেশি পাবে বোঝা যাচ্ছে না। বেশির ভাগ ভোটারই নীরব, তবে দুইজনের (বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী) পক্ষেই বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রকাশ্যে আছেন। শিশির মনিরের সমাবেশেও হাজারো মানুষ এসেছেন।’
আগের দিন মঙ্গলবার একই স্থানে সমাবেশ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা অর্জুন দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, সচীপদ দাস, সঞ্জিত দাস, শৈলেন্দু দাস, শৈলেন দাস প্রমুখ।
নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের শাল্লা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি সচীপদ দাস বললেন, দিরাই-শাল্লায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষের অস্তিত্বের লড়াই। বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দিরাই-শাল্লার সবাই ভালোবাসেন। গেল নির্বাচনগুলোয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কিংবা তাঁর স্ত্রী প্রার্থী থাকায় অনেকে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ পেয়েছেন। মামলায় যারা জড়িত রয়েছেন, তারা ছাড়া সকলেই নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে বলে দাবি করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের শাল্লা উপজেলা শাখার সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ছত্তার মিয়া বললেন, দিরাই-শাল্লায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি ও জামায়েতের দুই প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে, তারা যাকে ভোট দেবেন সে প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।
বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও শিশির মনিরকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা বললেন, ‘ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে প্রার্থীরা সবাই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে প্রচারণায় সামনে আনছেন। তবে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ভোট বর্জনের। আমরা ভোট বর্জনেই আছি।’

