মাইকের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা
Date: 2026-02-06
সংসদ নির্বাচনে ভোটার স্লিপের আকার ১২ বাই ৮ সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারবে না। অন্যদিকে, প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রচারণার সময় মাইক বা লাউড স্পিকারের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।
মাইক্রোফোন ও লাউড স্পিকার ব্যবহারে এমন নতুন বিধিনিষেধ এনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর সংশোধিত আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত বুধবার রাতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর অধিকতর সংশোধন করা হলো। (ক) বিধি ৮-এর দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হবে। (খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত ভোটার স্লিপ ১২ সেন্টিমিটার × ৮ সেন্টিমিটার আকারের বেশি হতে পারবে না। বিধি ১৭-এর উপবিধি (১)-এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপবিধি (১) প্রতিস্থাপিত হবে (১) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো নির্বাচনী এলাকার একক কোনো জনসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন।
গত ১১ নভেম্বর জারি করা আচরণ বিধিমালায় বিধি ৮-এর দফা (খ) ছিল- (খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত ভোটার স্লিপ ১২ সেন্টিমিটার × ৮ সেন্টিমিটার আকারের বেশি হতে পারবে না এবং তাতে প্রার্থীর নাম বা ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক বা ভোট প্রার্থনা করে কোনো কথা বা এরূপ ইঙ্গিতবহ কিছু উল্লেখ করতে পারবেন না।
আর প্রচারণায় মাইক ব্যবহার বিষয়ে আচরণবিধিতে যা আছে, মাইক ও লাউড স্পিকার ব্যবহার। (১) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় একসঙ্গে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন না। (২) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার সময়কালে কোনো নির্বাচনী এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার সীমাবদ্ধ রাখবেন। (৩) নির্বাচনী প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।
দেশে পৌঁছেছে পৌনে চার লাখ প্রবাসীর ভোট
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রবাসীর কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট দেশে আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পৌনে চার লাখ প্রবাসীর ভোট দেশে এসে পৌঁছেছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে সাত লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। প্রবাসীরা গ্রহণ করেছেন পাঁচ লাখ ২৬ হাজার আটটি ব্যালট। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন চার লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ প্রবাসী এবং দেশে ফেরত পাঠাতে পোস্ট অফিসে পোস্টাল ব্যালট জমা দিয়েছেন চার লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ প্রবাসী। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা এর মধ্যে ব্যালট গ্রহণ করেছেন এক লাখ সাত হাজার ১৬৮টি।
পোস্টাল ভোটের ফল নিয়ে যা জানাল ইসি
বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের ফল নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইসি। পাশাপাশি পোস্টাল ভোট কখন গণনা হবে এবং সেই ফল কখন জানা যাবে, সেটিও জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইসি জানায়, পোস্টাল ব্যালট পেপার নির্বাচনের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার পরে নিয়মিত ভোট গণনার সময় একই সঙ্গে গণনা করা হবে। উল্লিখিত সময়সীমার আগে ভোটের ফল জানার কোনো সুযোগ নেই। এ-বিষয়ক যে কোনো ধরনের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হতে জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

