গাজায় প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুদ্ধ সমাধিক্ষেত্রের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। ওই সমাধিতে কয়েক ডজন ব্রিটিশ, অস্ট্রেলীয় ও অন্য মিত্র দেশগুলোর সেনাদের সমাধি রয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে গত বুধবার দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, গাজা সিটির আল-তুফফা এলাকায় ওই সমাধিক্ষেত্রে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বোমার পাশাপাশি বুলডোজার দিয়েও সমাধিক্ষেত্র সমতল করে দেওয়া হচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে কবরস্থানের দক্ষিণতম কোণে বিস্তৃত মাটির কাজ দেখা যাচ্ছে। কবরস্থানের চারপাশে বোমার গর্ত দেখা যাচ্ছে। তবে এই এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সমাধিস্তম্ভের সারি সরানো হয়েছে। ওপরের মাটি সরানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মাঝখানে একটি বিশাল মাটির তৈরি অংশ দেখা যাচ্ছে। এটি এমন আকারের, যা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানায়, গত বছরের মার্চে মাটির কাজ করার কোনো চিহ্ন ছিল না। তবে ৮ আগস্টের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে সেগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ১৩ ডিসেম্বরের কবরস্থানের একটি ছবিতে বিশৃঙ্খল এলাকাটি আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। কবরস্থানের বাকি অংশজুড়ে সমাধিস্তম্ভের সারিগুলোর মধ্যে গাছপালা আবার বেড়ে উঠেছে। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটি এখনও খালি রয়েছে।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গত বুধবার এ হামলায় শিশুসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হন। এমন এক সময় এসব হামলা হচ্ছে, যখন উপত্যকার প্রায় সব মানুষ তাঁবুতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীত নিবারণের উপকরণ না থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে শিশুমৃত্যু। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রোগশোক ও অসুস্থতায়ও মারা যাচ্ছেন অনেকে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও তীব্র।
হামলার মধ্যেও ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা
গাজা ও মিসরের মধ্যে থাকা রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি উপত্যকায় ফিরে আসেন। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও কড়াকড়ি অব্যাহত আছে। সেই সঙ্গে টার্গেট করে ফিলিস্তিনিদের হত্যাও করা হচ্ছে।