প্রতিবন্ধী কোটা সংসদে ১ ও সরকারি চাকরিতে ২% দাবি

Date: 2026-02-06
news-banner

সংসদে ১ শতাংশ ও সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে ডিজঅ্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দিকে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। 
গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডিজঅ্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচের সদস্য ডা. নাফিসুর রহমান। 

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয় না। অথচ দেশের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এটা ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আবার বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। সংসদে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী নির্বাচিত হলেও তিনজন সংসদ সদস্য থাকবে। তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা বলতে পারতেন। অথচ এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সমস্যার কথা বলার মতো একজনও সংসদে নেই। 
আসন্ন নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, এ জন্য তাদের যানবাহনের ব্যবস্থা করা দরকার। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রে নিচতলায় যাতে প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথকভাবে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, সেটা নির্বাচন কমিশনের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো ধরনের প্রচারণা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ’কে বাংলাদেশ পরের বছর অনুসমর্থন করে। সনদটি বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সনদের মূলনীতি ও অধিকারগুলোকে সম্পৃক্ত করে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৯ সালে একটি ‘প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়। এতে ১৮টি কর্মএলাকায় ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংস্থা দুটি বলছে, সনদ ও আইন; দুটিরই বাস্তবায়ন প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হলেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আইনি ও নীতি পর্যায়ে প্রায় সব সুবিধা ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলো দেওয়া থাকলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতি পদে বঞ্চনার শিকার হয়েই চলেছে। 

নির্বাচন সামনে রেখে মূলধারার রাজনৈতিক দল, আন্তর্জাতিক মাধ্যম এবং ইসির কাছে সংস্থা আরও কিছু দাবি পেশ করেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে– প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং এ জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ করা। ২০১৩ সালের আইনটি বাস্তবায়ন বা পরিবীক্ষণের জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি এবং শহর কমিটির সভার নিয়মিত আয়োজন করা। 
প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ দলিলটির পরিবর্তন করা। সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সম্মিলিতভাবে ১ শতাংশ কোটা বাড়িয়ে ২ শতাংশ কোটা রাখা। প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে একজন ডিজঅ্যাবিলিটি ফোকাল পয়েন্ট আবার মনোনয়ন দান এবং পরিবীক্ষণ কমিটির সভার আয়োজন নিয়মিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিজঅ্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচের সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সদস্য খন্দকার জহুরুল আলম, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও ও অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মহুয়া পাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News