চট্টগ্রাম বন্দর অচলে অর্থনীতি বিপন্ন, দ্রুত সমাধানের আহ্বান

Date: 2026-02-06
news-banner

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সৃষ্ট বিপর্যয় নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ৯ বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই আহ্বান জানান। বিবৃতি দেওয়ার আগে রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন তারা। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়ে আলাদা বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা চেম্বার।

যৌথ বিবৃতিতে সই করেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিটিটিএলএমইএ, বিজিএপিএমইএ ও বিজিবিএর সভাপতিরা। এতে তারা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এ মুহূর্তেই বিষয়টি সুরাহা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানোর অধিকার আপনাদের আছে। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া মানে নিজের ঘরকে নিজেই বিপদে ফেলা। আমরা আপনাদের আহ্বান জানাই– দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই অবস্থান থেকে সরে আসুন। নেতারা বলেন, সরকার এবং আন্দোলনরত পক্ষগুলো দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসে (বৃহস্পতিবারের মধ্যে) একটি স্থায়ী সমাধান বের করবেন। অন্যথায় এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণ কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্দর এক দিন বন্ধ থাকা মানেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকসহ সব খাতের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় দেশ এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে রপ্তানি খাতের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের অপেক্ষায় বন্দরে পড়ে আছে। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ক্রেতাদের কাছে দেওয়া ‘ডেডলাইন’ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি আর কয়েক দিন থাকলে বড় ধরনের রপ্তানি আদেশ বাতিল হতে পারে এবং ব্র্যান্ড ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের
ঢাকা চেম্বার আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ও বিনিয়োগের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য এই বন্দরের মাধ্যমে খালাস হয়। আমদানি ও রপ্তানির জন্য এই বন্দর থেকে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টিইইউ এবং প্রতিদিন গড়ে ৯০০০ টিইইউ খালাস হয়, যা গত বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। 
সংগঠনটি বলছে, এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য বন্দরে আটকা পড়েছে।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News