বগুড়ায় হামলায় বিএনপি নেতা আহত, খবরে মায়ের মৃত্যু
Date: 2026-02-19
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় লাঠির আঘাতে মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানা মজিদের চোখে গুরুতর জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিলেও এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্ট্রোক করে মারা যান মজিদের মা মাজেদা খাতুন।
গত সোমবার রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাসুদ রানা মজিদ ছাড়াও অন্য আহতরা হলেন– তাঁর ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রবিউল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের বগুড়া শহর শাখার সাথি পারশুন গ্রামের আসাদুল্লাহ হিল গালিব। মাসুদ ও তাঁর ভাই রবিউলকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুদকে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের জন্য স্থানীয় জামায়াতকর্মী বেলাল হোসেন ও ফারুক আহম্মেদ পারশুন গ্রামে যান। এ সময় বিএনপির লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই জামায়াতের বেশ কিছু নেতাকর্মী অন্য এলাকা থেকে সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তারা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানা মজিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে মাসুদের ডান চোখ প্রায় উপড়ে যায়।
অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, পারশুন এলাকায় বিএনপির মিছিল থেকে তাদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের কর্মী গালিবকে মারধর এবং আরও দুই কর্মীকে আটকে রাখে বিএনপিকর্মীরা। মারধরে আহত গালিবকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে দায়ী করেছেন। নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নন্দীগ্রামের ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, উভয় পক্ষ আমাকে বিষয়টি জানালে আমি পুলিশ এবং এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে সংঘর্ষ
ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের উল্লা গ্রামে স্বতন্ত্র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ মার্কার সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খান একে অপরের সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
এদিকে পূর্বশত্রুতার জেরে ঝিনাইদহ সদরের মিয়াকুণ্ডু গ্রামে ঠাণ্ডু মণ্ডল নামে এক বিএনপি সমর্থককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তি।
আহত ঠাণ্ডু মণ্ডল বলেন, হামলাকারীরা সব আমাদের গ্রামের। হামলাকারীরা হয়তো মনে করেছে, আমি ধানের শীষের পরিবর্তে কাপ-পিরিচের ভোট করছি। আমার ভাই থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে।
সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ে সারজিস-নওশাদ সমর্থকের মারামারি
পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে মারামারিতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার গভীর রাতে আটোয়ারী উপজেলার রমজানপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
বিএনপির দাবি, নওশাদ জমিরের ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালায় জামায়াত ও এনসিপির লোকজন। তাদের মারধরে ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হন। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীদের দাবি, রাতে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তাদের আট নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
পাথরঘাটায় জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে জখম
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত মাহফুজুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে বিএনপিকর্মীরা জড়িত। গতকাল দুপুর ১টার দিকে কাঁঠালতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আস্তাইন বাড়ি সেতুর ওপর এ ঘটনা ঘটে।
আহত মাহফুজুর রহমান জানান, দুপুরে মাদ্রাসা থেকে মোটরসাইকেলে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে আস্তাইনবাড়ি সেতুর ওপর স্থানীয় বিএনপির কর্মী টিপু, হাসান, মাহমুদ, ইমামসহ ছয় থেকে সাতজন লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে। মারধরে তাঁর দুই পা ও এক হাত ভেঙে গেছে। তাঁকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা-২ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিএনপির কেউ হামলা চালায়নি। এটা জামায়াতের মিথ্যা নাটক।
নেত্রকোনায় ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের আগুন
নেত্রকোনার সদর ও পূর্বধলা উপজেলায় একাধিক ভোটকেন্দ্রের বুথ কক্ষে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্রগুলো হলো– সদর উপজেলার পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, আগুনে বুথ কক্ষের ভেতরে থাকা বেঞ্চ, ফ্যান ও লাইট পুড়ে গেছে। জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানায়, তপশিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন ঘিরে দেশে ২৭৪টি নির্বাচনী সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে পাঁচটি। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বলছে, তপশিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন বলছে, জানুয়ারিতেই ৬৪টি নির্বাচনী সহিংসতা ও ২৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হন দুজন, আহত ৭৫০ জন। ২০১৮ সালের ভোটে সহিংসতায় মারা যান ১৬ জন ও আহত হন ৬৭০ জন। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান ১১৫ জন, আহত হন ৮৫৪ জন। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান সাতজন, আহত হন চারজন। ২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান ২৫ জন; আহত হন ৩৭৩ জন।
(ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো তথ্য)

