ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ‘পরামর্শেই’ জুলাই আন্দোলন দমনে ‘কারফিউ জারি ও দেখামাত্র গুলির নির্দেশ’ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
জুলাই মানবতাবিরোধী এক মামলায় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল মঙ্গলবার প্রসিকিউশন পক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই দুই আসামির বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক শুরু হলো। পাশাপাশি আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ঠিক করা হয়। এ সময় দুই আসামি ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সূচনা বক্তব্যের পর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সরকারের আমলে আসামি আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তারা পরস্পরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতাকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্র করেছেন। বারুদাস্ত্র, হেলিকপ্টার ও সামরিক বাহিনী ব্যবহারের পরিকল্পনা তারাই করেছেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে প্রভাবিত করেছেন। এরই ফলশ্রুতিতে দেশজুড়ে পাখির মতো গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।
কারফিউ ও গুলির নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখিয়েছি, কারফিউ জারির ব্যাপারে সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হকের শলাপরামর্শ ছিল। তাদের পরামর্শেই দেখামাত্র গুলির নির্দেশ বা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। আনিসুল হক বিশেষ করে ‘টু স্কুল অব থটস’-এর কথা বলেছিলেন। যার একটি ছিল আন্দোলনকারীদের একেবারে নির্মূল করে দেওয়া। এই দুজনের মাথা থেকেই এসব পরিকল্পনা এসেছে। তাদের ‘গ্যাং অব ফোর’-এর সদস্য বলা হয়।
তাজুল বলেন, এই দুই আসামির বিরুদ্ধে ২৮ জন সাক্ষীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিজিটাল, ডকুমেন্টারি ও লাইভ প্রমাণাদির মাধ্যমে তাদের অপরাধ অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হবে প্রসিকিউশন।
গত ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ড, ২৮ জুলাই মিরপুর-১০-এ মারণাস্ত্র ব্যবহার, ৪ আগস্ট মিরপুর-১-এ ১২ জন এবং ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘিরে মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে তাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এই দুজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
ভোট দেওয়ার খবর অসত্য
আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে কেন্দ্রীয় কারাগারে ভোট দেওয়ার খবরটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
পলাশ বলেন, আমার মক্কেলরা জেলখানা থেকে ভোট দিয়েছেন এমন একটি খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। আর এ খবরটি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছেন তারা। অথচ তাদের ভোট দেওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।