সংঘর্ষ-মামলায় বিভক্ত বিএনপি সুযোগ নিতে চান অন্য প্রার্থীরা
Date: 2026-02-19
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্বন্দ্ব। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলাও চলছে। প্রচারে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে কড়া বক্তব্যও দিয়েছেন। যে কারণে বিএনপির ভোটেও বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে অভিমত স্থানীয়দের। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটের দিকে নজর তাদের। অনেক প্রার্থী মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নীরব ভোটগুলো পেলেই হয়তো পাস করা সহজ হবে।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তালা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন বিএনপির
চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা
জিয়ার সাবেক এপিএস আবদুল মতিন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আবদুল মতিনকে বিএনপির সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তারা দুজন প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোটে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, আবদুল মতিন স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলে বিএনপির সব ভোট ধানের শীষে পড়ত। সেই ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থীর জয় পাওয়া সহজ হতো।
গত ২২ জানুয়ারি বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনের সমথর্কদের সংঘর্ষ হয়। যা ভোটের মাঠের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি বিএনপির ২১৫ জনের নামে একটি মামলা করেন আবদুল মতিনের সমর্থক জহিরুল হক জহর। এরপরই সেলিম ভূঁইয়ার সমর্থক সুলতান মিয়া বাদী হয়ে আবদুল মতিনের অনুসারী ২৭৮ জনের নামে মামলা করেছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে দুই প্রার্থীর বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। গত রোববার এক নির্বাচনী জনসভায় সেলিম ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন, যা দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দেয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনকে ইঙ্গিত করে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘তিনি বিএনপি অফিসে কাজ করে কমিশন খেতেন, তাঁর নাম হচ্ছে মিস্টার টুয়েন্টি পার্সেন্ট। তিনি এক নারী পাচারকারীকে নিয়ে প্রচারে নেমেছেন। ১২ তারিখের পর সেগুলো আমরা দেখব।’
তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিন। তাঁর পক্ষে কাজ করছেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল হক জহরসহ দলের একটি অংশ।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সেলিম ভূঁইয়াকে ইঙ্গিত করে আবদুল মতিন বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ যিনি আছেন, তিনি তো এই এলাকার না, তিনি বহিরাগত। তিনি অন্য উপজেলা থেকে ভাড়া করে লোক আনেন। আমি শহীদ জিয়ার আদর্শ লালন করি, তিনি আমার গুরু, বেগম জিয়ার আদর্শ লালন করি। যারা ভোটকেন্দ্র দখল করবে সেনাবাহিনীর পিটা খাবে।’
বিএনপির এই বিভক্তি কাজে লাগাতে মাঠে তৎপর অন্য প্রার্থীরা। বিএনপির বিভাজনের সুযোগ নিতে ভোটের মাঠে হাতপাখা প্রতীকের প্রচার চালিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজিম উদ্দিন সভা সমাবেশের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অবস্থান জোরদার করেছেন। তারা মনে করেন,
আওয়ামী লীগসহ সাধারণ জনগণ তাদের ভোট দেবেন। তাদের দাবি, ধানের শীষ এবং তালা প্রতীকের প্রার্থী দুজনই বিএনপির লোক, তাই বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় যদি হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লার ভোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটগুলো টানতে পারেন তাহলে তাদের জয় নিশ্চিত।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি আমির হোসেনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রচার হলেও তা কম মনে করছেন স্থানীয়রা। এই আসনে চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুস সালাম। নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে তেমন একটা দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের অভিমত।
ভোটের বিষয়ে কথা বললে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশন অনুযায়ী তাদের অনেকেই ভোট দেবেন না। কিছু কর্মী বলছেন, সব প্রার্থীই ভোট দিতে বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন তা ভাবছেন তারা। প্রার্থীরা একদিকে দোসর বলছে, অন্যদিকে ভোট চাইছেন। ভোট দিতে বললে যারা অন্যায় করেননি, তারা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে যেন প্রার্থীরা সতর্ক থাকেন।

