দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, ভারত চায় না

Date: 2025-12-31
news-banner

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় না ভারত। অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর। 

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স এবং ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার শুরুতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জন্য দোয়া করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তারা চায় না বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এটা নিয়ে অনেক সময় জুলাইযোদ্ধারা আমাকে ভুল বুঝেছে। বাংলাদেশে যদি একটা অস্থিরতা থাকে, তাহলে ভারতের জন্য সুবিধা। 

অন্তর্বর্তী সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু সময় আছে মাত্র ছয় সপ্তাহ। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আশা করেছিলাম, তারা একটি নতুন বাংলাদেশ আমাদের উপহার দেবেন। এখনও দলীয় সংকীর্ণ চিন্তাধারার বাইরে কাউকে উঠতে দেখছি না। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশপ্রেম থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলীয় ধ্যানধারণামুক্ত হয়ে গণমাধ্যম নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি। বিদেশি শক্তি আমাদের সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে একটি শক্তি। তাদের অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে মুক্তি পেতে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। অথচ সরকার জনপ্রতিনিধিকে অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে। একজন ভোটার হিসেবে আমি যদি লাইসেন্স চেয়ে বলি, ভোট দিতে গিয়ে আমিও গোলাগুলির মাঝে পড়ে যেতে পারি। সেজন্য আমাকেও কি লাইসেন্স দেবেন? 

তারেক রহমান দেশে আসার পর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তবে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকার তারেক রহমানকে যে সংবর্ধনা দিয়েছে, তাতে আমার মনে হয় না লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। বাংলাদেশের রাজনীতি যেন বিদেশি শক্তিদের কাছে চলে না যায়, সেজন্য একতাবদ্ধ থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, যে কারণে হাদি শহীদ হয়েছেন, সেই লড়াই আমরা চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে দ্রুত  সন্ত্রাসীদের উৎখাত করুন। জুলাইয়ের রক্তকে উপেক্ষা করলে পরিণতি খারাপ হবে।

ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের চেয়ারপারসন ও ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব ড. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারিসুল করিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আরও বক্তব্য দেন সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভুঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরীন সুলতানা মিলি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

advertisement image

Leave Your Comments

Trending News